ভারতীয় পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫% শুল্ক, উত্তপ্ত বাণিজ্য সম্পর্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৪, ২ অগাস্ট ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কে
নতুন করে উত্তেজনা দেখা
দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর। ভারত থেকে
আমদানি করা একাধিক পণ্যের
ওপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত
শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র,
যা দুই দেশের কৌশলগত
ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন জটিলতা সৃষ্টি
করেছে।
ট্রাম্প
প্রশাসনের অভিযোগ—ভারত রাশিয়া থেকে
সস্তায় অপরিশোধিত তেল কিনে তা
পরিশোধন করে পশ্চিমা দেশগুলোতে
রপ্তানি করছে, যা পরোক্ষভাবে রাশিয়াকে
আর্থিকভাবে সহায়তা দিচ্ছে। এটি জি৭ জোটের
রাশিয়ার ওপর আরোপিত মূল্যসীমা
নীতির পরিপন্থী বলে মনে করছে
ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প
‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে বলেন,
“ভারতের অর্থনীতি গোল্লায় যাক। আমরা ওদের
সঙ্গে ব্যবসা করতে চাই না।
কারণ তাদের শুল্ক অত্যন্ত বেশি। ভারত হচ্ছে একটি
মৃত অর্থনীতি।”
মার্কিন
ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও ভারতের
কড়া সমালোচনা করে বলেন, “ভারত
এখন আর বিশ্বাসযোগ্য কোনও
শক্তি নয়। তারা রাশিয়ার
তেল কিনে বিশ্ববাজারে লাভে
বিক্রি করছে।”
এর পরপরই ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারতের
ইস্পাত, টেক্সটাইল ও কেমিক্যালসহ বেশ
কয়েকটি রপ্তানি পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক
কার্যকর করা হয়।
বাণিজ্য
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের রাশিয়া-নির্ভর জ্বালানি নীতি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন
পশ্চিমা মূল্যসীমা কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওয়াশিংটন এখন নয়াদিল্লিকে ‘কৌশলগত
কিন্তু স্বার্থান্বেষী’ অংশীদার হিসেবে দেখছে।
অন্যদিকে,
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের
অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, “আমাদের
তেল আমদানি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক চাহিদাভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম
অনুসরণে পরিচালিত। জাতিসংঘ অনুমোদন ছাড়া কোনো একতরফা
নিষেধাজ্ঞাকে আমরা স্বীকৃতি দিই
না।”
বিশেষজ্ঞরা
আশঙ্কা করছেন, এই বাণিজ্যিক উত্তেজনা
দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্বে ফাটল ধরাতে পারে।
বর্তমানে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয়
বাণিজ্যের পরিমাণ ১২৯ বিলিয়ন ডলারের
বেশি। দুই দেশ প্রতিরক্ষা,
প্রযুক্তি ও ভূরাজনীতিতে ঘনিষ্ঠভাবে
জড়িত, বিশেষত চীনের প্রভাব মোকাবিলায়।
তবে
নয়াদিল্লির মস্কোমুখী অবস্থান ও রাশিয়ার দ্বিতীয়
বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক হিসেবে
ভারতের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ
বাড়ছে। যদিও ভারত সাম্প্রতিক
বছরগুলোতে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল থেকেও
বিপুল পরিমাণে অস্ত্র সংগ্রহ করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও রাশিয়া ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
এফএইচ/বিএ/পিআর